মঈনুদ্দীন শামীম | শনিবার, ১০ মে ২০২৫ | প্রিন্ট | 385 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
মঈনুদ্দীন শামীম
২০০৮ সালের কথা। আমি তখন ঢাকা হার্ডকো ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের বাংলা বিভাগের প্রধান। হার্ডকো স্কুল নিজস্ব ক্যাম্পাসভিত্তিক ব্রিটিশ ক্যাম্বরিজ কারিকুলামের একটি চমৎকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সকাল ৭:৩০ থেকে দুপুর ০১:৩০ পর্যন্ত এখানে আমি ফুল টাইম শিক্ষকতা করি। বিকেলে ‘সাপ্তাহিক ২০০০’ এ রিপোটিং, ফিচারসহ লেখালেখিও চলে। এ অবস্থায় একদিন ধানমন্ডির একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল জেদ্দার একদল ডেলিগেটের মুখোমুখি হই। দুই কক্ষভর্তি অনেক চাকুরি প্রার্থী। আমাকে যখন ডাকা হয় তখন বেশ রাত। বিভিন্ন কথোপকথনের এক পর্যায়ে বেতন নিয়ে আলোচনা। নির্বাচকমন্ডলী আমাকে ৩৫০০ রিয়াল অফার করলেন। আমি বিনয়ের সঙ্গে অসম্মতি জানালে তারা অন্যভাবে আমাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করলেন। পরে জানতে পারলাম ঐ বোর্ডে স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির হিসাব প্রধান প্রকৌশলী মিয়া মুহাম্মদ তালুকদার, চেয়ারম্যান ডা. খালেদ আক্তার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন প্রফেসর ছিলেন। নির্বাচকমণ্ডলী আমার স্ত্রীকেও শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিলেন। আমি ইনশা আল্লাহ ভেবে দেখবো বলে ইন্টারভিউ বোর্ড ত্যাগ করলাম।
গ্রামের বাড়িতে এসে মায়ের মতামত জানতে চাইলাম। ইতোমধ্যে বাবা দুনিয়ার সফর শেষ করে জান্নাতবাসী হয়েছেন। তাই মা ভক্ত ঘরকুনো হিসেবে মায়ের মতামত ছাড়া সিদ্ধান্ত নিতে পাছিলাম না। মা বিষয়টা বিস্তারিত জেনে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন;
অন্তসত্ত্বা স্ত্রী, প্রিয় মা জননী ও ভাইবোনসহ বিশেষ করে “হার্ডকো” ও “সাপ্তাহিক ২০০০” ত্যাগ করে প্রবাসে পাড়ি জমানোর সিদ্ধান্ত নিতে বুকের ভেতর কিছুটা চিনচিন করে উঠলো।
৫ মে পাসপোর্ট ভিসাসহ হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে প্রবেশ করলাম। ইমেগ্রেসন লাইনের কিছুটা দীর্ঘসূত্রিতা পার করার পর বিমানে ওঠার জন্য অপেক্ষমান। পরিচয় হল আমার থেকে কিছুটা সিনিয়র এক ভদ্রলোকের সঙ্গে। তিনি বি এ এফ শাহীন কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, গণিত বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ শাহ আলম। জানতে পারলাম তিনিও একই প্রতিষ্ঠানের গণিত শিক্ষক হিসেবে জেদ্দায় যাচ্ছেন। আকাশে উড়াল দেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দুজনের বেশ ভালো সময় কাটলো। সেই থেকে আজ পর্যন্ত তিনি ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে আমি ও আমার পরিবারের এক অন্যরকম সম্পর্ক বিদ্যমান। দুজন মিলে ৬ মে বেশ বিলম্বে স্থানীয় সময় সকাল ৭:৩০ এ জেদ্দা কিং আব্দুল আজিজ বিমান বন্দরের ইমিগ্রেশনে পৌঁছলাম। শুরু হল আন্তর্জাতিক জেলখানা নামক এক অন্যরকম প্রবাস জীবন।
.
এ বিভাগের আরও খবর